সময়পত্র ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া ছোট্ট বাসিত খান মুসা আজ আবার হাসে, খেলে, খেলনা দিয়ে রোবট বানায়। তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ চিকিৎসা, অসংখ্য অস্ত্রোপচার এবং এখনো চলমান এক কঠিন সংগ্রামের গল্প।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়া হাট এলাকায় বাবার সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে বের হলে বাসার ফটকের ভেতরেই গুলিবিদ্ধ হয় মুসা। গুলিটি তার মাথা ভেদ করে পেছনে থাকা দাদি মায়া ইসলামের শরীরেও লাগে। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দাদি। এরপর শুরু হয় মৃত্যুর সঙ্গে ছোট্ট মুসার দীর্ঘ লড়াই।
প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় একই বছরের অক্টোবরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আবারও সিএমএইচে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেয় সে।
দুই বছর চিকিৎসার পর এখন রাজধানীর মালিবাগে পরিবারের সঙ্গে বাস করছে মুসা। কথা বলতে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও ডাকলে তাকিয়ে হাসে, আর ভালো থাকার প্রশ্নের জবাবে বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল তুলে জানায় সে ভালো আছে।
পরিবার জানায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর টানা তিন মাস তার চোখ খোলেনি। প্রায় নয় মাস মুখে কোনো শব্দও ছিল না। চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা, পরিবারের অদম্য লড়াই এবং অসংখ্য মানুষের সহায়তায় ধীরে ধীরে জীবনে ফিরেছে সে। তবে এখনো নিয়মিত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই কাটছে তার দিন।
মুসার চিকিৎসার জন্য দেশজুড়ে গড়ে ওঠে সহমর্মিতার নজির। ব্যক্তি, বিভিন্ন সংগঠন, চিকিৎসক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সরকারের সহযোগিতায় তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়। দেশে ফেরার পরও দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে বিশেষায়িত চিকিৎসা।
আজ ছোট্ট মুসা আবার হাসতে শিখেছে, খেলতে শিখেছে। কিন্তু যে বয়সে তার মাঠে ছুটে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সেই তাকে লড়তে হচ্ছে একটি গুলির রেখে যাওয়া স্থায়ী ক্ষত আর দীর্ঘ পুনর্বাসনের পথের সঙ্গে।

