চলছে বৃক্ষরোপণ অভিযান। জুন থেকে আগস্ট মাস গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। সঠিক স্থানে উপযুক্ত চারা লাগানোর এখনই সময়।
আপনার নিকটস্থ জেলা ও উপজেলা বৃক্ষমেলা থেকে চারা সংগ্রহ করতে পারেন। সুস্থ, সবল, মধ্যমাকৃতির ও সঠিক জাতের চারা সরকারি-বেসরকারি নার্সারি অথবা আপনার বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিগত নার্সারি থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।
পরবর্তী বংশধরদের কথা চিন্তা করে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা লাগানোর প্রতি বেশি নজর দিতে পারেন। এতে ফল, ওষুধ এবং কাঠ—সবই পাওয়া যাবে।
বন্যামুক্ত, আলো-বাতাস চলাচল করে এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পড়ে—এমন জায়গায় চারা রোপণ করা উচিত। দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল দো-আঁশ মাটি, উর্বর, সুনিষ্কাশিত ও উঁচু স্থানে চারা রোপণ করা উত্তম।
আসুন জেনে নিই, কোথায় কোন চারা রোপণ করা উচিত—
বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে
বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে রোদ ও আলো পাওয়ার জন্য ছোট ও কম ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। দক্ষিণ পাশের জন্য সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম ও মেহেদি গাছ লাগাতে পারেন।
বসতবাড়ির পূর্ব-পশ্চিম পাশে
বসতবাড়ির পূর্ব ও পশ্চিম পাশে মাঝারি উঁচু এবং মাঝারি ঝোপালো গাছ লাগাতে হবে। এতে সকাল ও সন্ধ্যায় বাড়ির আঙিনায় পর্যাপ্ত আলো থাকবে। পূর্ব-পশ্চিম পাশের জন্য বাউকুল, আপেল কুল, সফেদা, আম্রপালি আম, লিচু, খেজুর, ডালিম, কলা, আতা, বেল, পেয়ারা প্রভৃতি গাছ লাগাতে পারেন।
বসতবাড়ির উত্তর পাশে
বসতবাড়ির উত্তর পাশে বড় ও উঁচু গাছ লাগালে ঝড়-তুফান প্রতিরোধে সহায়তা করে। এখানে আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমনি, বাঁশ ইত্যাদি গাছ রোপণ করতে পারেন।
প্রতিষ্ঠানে
মসজিদ, মন্দির, গির্জা, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে ও আশপাশে শোভাবর্ধনকারী এবং ছায়াদানকারী গাছ লাগানো যেতে পারে। যেমন—দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, তাল, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, আম, কাঁঠাল ও লিচু।
পতিত জমিতে
পতিত জমিতে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো যেতে পারে। যেমন—আম, কাঁঠাল, জাম, কামরাঙা, মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাঁশ ইত্যাদি।
হাটবাজারে
হাটবাজারে ছায়াদানকারী গাছ রোপণ করা উচিত। এখানে আম, কাঁঠাল, জাম, সেগুন, দেবদারু, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, কৃষ্ণচূড়া ও বটগাছ রোপণ করা যেতে পারে।
রাস্তার পাশে
রাস্তার পাশে উঁচু এবং ডালপালা ছাঁটাই করে রাখা যায়—এমন গাছ রোপণ করতে হবে। যেমন—মেহগনি, শিশু, সেগুন, হরিতকি, আকাশমনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, বাবলা, ইপিল-ইপিল, শিমুল ইত্যাদি।
রেললাইনের ধারে
রেললাইনের ধারে মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, নিম, পাম, শিমুল ইত্যাদি গাছ রোপণ করা যেতে পারে।
বাঁধের ধারে
যেসব গাছের শিকড় শক্ত ও বিস্তৃত, সেসব গাছ বাঁধের ধারে রোপণ করা যেতে পারে। যেমন—বট, আমড়া, বাঁশ, মেহগনি, শিশু, সেগুন, আকাশমনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, কৃষ্ণচূড়া, বাবলা, কড়ই ইত্যাদি।
জমির আইলে
যেসব গাছের শিকড় কম বিস্তৃত, কম ছায়াদানকারী এবং ডালপালা ছাঁটাইযোগ্য, সেসব গাছ জমির আইলে রোপণ করা যেতে পারে। যেমন—মেহগনি, দেবদারু, নারিকেল, সুপারি ও খেজুর।
নিচু জমিতে
নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে—এমন গাছ রোপণ করতে হবে। যেমন—পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি।
পুকুরপাড়ে
পুকুরপাড়ের মাটি যাতে না ভাঙে এবং পরিবেশের শোভা বৃদ্ধি পায়, সেজন্য সুপারি, নারিকেল, নিম, দেবদারু, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, কলা ইত্যাদি গাছ লাগাতে পারেন।
নদীর ধারে
নদীর ধারে পানিসহিষ্ণু, শক্ত, মজবুত ও বড় হয়—এমন গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন—শিমুল, ছাতিম, পিটালি, বেত, মূর্তা, বাঁশ, মান্দার, জারুল, হিজল, কদম ইত্যাদি।
উপকূলীয় অঞ্চলে
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এবং হালকা পাতা বিশিষ্ট গাছ রোপণ করা উচিত। যেমন—সুন্দরী, ছৈলা, গরান, গেওয়া, গোলপাতা, মান্দার, কড়ই, বাবলা ও নারিকেল।
যেখানে চারা পাবেন
সরকারি-বেসরকারি নার্সারি, জেলা ও উপজেলা বৃক্ষমেলা, এনজিও নার্সারি, ব্যক্তিগত নার্সারি, বিএডিসির নার্সারি এবং কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নার্সারি থেকে ভালো মানের চারা সংগ্রহ করা যাবে।
দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য কলমের চারা রোপণ করা উত্তম।
আসুন, সঠিক স্থানে সঠিক গাছ লাগাই এবং সবুজ-সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলি।
এ. বি. খান
কৃষিবিদ

