সময়পত্র ডেস্ক: সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে শহর ও জনবসতিতে প্রাণঘাতী বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির সাবেক নয় সামরিক পাইলটকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতারদের মধ্যে তিনজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় লাতাকিয়া প্রদেশে নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ অভিযান চালানোর পর সাবেক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার পাইলটদের আটক করে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সিরিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সানার প্রতিবেদনে গ্রেফতার তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মানহাল আনোয়ার সালেহ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সামি ইব্রাহিম মাহমুদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ঘিয়াথ আলী আল-রাহিয়া।
সিরিয়ায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ সময় সাবেক সরকারের অনুগত বাহিনীর বিমান হামলায় বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকা বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের তথ্য অনুসন্ধান ও বিচারের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন বিচার কমিশন গঠন করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, সাবেক সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালের বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৮২ সালের ভয়াবহ হামা হত্যাযজ্ঞে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গত আগস্টে সিরিয়ার একটি আদালত রাশিয়ায় পালিয়ে থাকা বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের আল-আসাদকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের বিচারকরাও তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালের প্রাণঘাতী রাসায়নিক হামলা, ২০১৭ সালে দারায় বেসামরিক আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ এবং ২০১২ সালে হোমসে একটি গণমাধ্যম কেন্দ্রে বোমা হামলার অভিযোগ রয়েছে।
২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সিরিয়ায় সংঘাতের শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এতে লাখো মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটে। আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসন যুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

