ক্রিড়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ টেনিসে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ এসেছে বেন শেলটনের সামনে। ইউএস ওপেনের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন স্বাগতিক এই তারকা। অল-আমেরিকান সেমিফাইনালে ফ্রান্সেস টিয়াফোকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের শিরোপা লড়াইয়ে উঠেছেন ২৩ বছর বয়সী শেলটন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে অষ্টম বাছাই শেলটন ৪-৬, ৬-৩, ৬-৩, ৭-৫ সেটে হারান ১১তম বাছাই টিয়াফোকে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের ম্যাচে দুই মার্কিন খেলোয়াড়ই আক্রমণাত্মক টেনিস ও দুর্দান্ত শটের প্রদর্শনী করেন। শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেন শেলটন।
ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ জার্মানির শীর্ষ বাছাই আলেক্সান্ডার জভেরেভ। অন্য সেমিফাইনালে আনসিডেড রুশ খেলোয়াড় কারেন খাচানভকে ৬-৩, ৭-৬ (৯-৭), ৭-৬ (৮-৬) সেটে হারিয়ে টানা তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে উঠেছেন জভেরেভ।
শেলটনের সামনে এখন দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ। ২০০৩ সালে ফ্লাশিং মিডোজে অ্যান্ডি রডিকের পর আর কোনো আমেরিকান পুরুষ খেলোয়াড় গ্র্যান্ড স্ল্যাম একক শিরোপা জিততে পারেননি। এবার সেই খরা কাটানোর দায়িত্ব ২৩ বছর বয়সী শেলটনের কাঁধে।
ম্যাচ শেষে শেলটন বলেন, টিয়াফো তার কাছে বড় ভাইয়ের মতো। এই কোর্টে তার বিপক্ষে খেলা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। একই সঙ্গে দর্শকদের সামনে এমন একটি মুহূর্ত তৈরি করতে পেরে নিজের ভালো লাগার কথাও জানান তিনি।
রোববারের ফাইনালের আগে সমর্থকদের উদ্দেশে শেলটন বলেন, তাদের সমর্থন তার প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তিনি নিজের সবটুকু দিয়ে লড়াই করতে চান বলেও জানান।
শেলটনের এবারের পথচলা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যামে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি। এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছেন। তবে শিরোপার পথে বড় বাধা জভেরেভ। ক্যারিয়ারে জার্মান তারকার বিপক্ষে পাঁচবার মুখোমুখি হলেও প্রতিবারই হেরেছেন শেলটন।
টিয়াফোর বিপক্ষে সেমিফাইনালে শেলটন ও তার প্রতিপক্ষ দুজনেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেন। ম্যাচে মোট ৭৪টি উইনারের মধ্যে শেলটনের ছিল ৪৭টি। এছাড়া ২০টি এসও করেন তিনি।
প্রথম সেটে টিয়াফো এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয় সেট থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন শেলটন। শক্তিশালী সার্ভ এবং আক্রমণাত্মক ফোরহ্যান্ড দিয়ে টিয়াফোকে চাপে রাখেন তিনি।
চতুর্থ সেটে টিয়াফো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষদিকে শেলটনের চাপ সামলাতে পারেননি তিনি। ৬-৫ গেমে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ জয়ের তিনটি সুযোগ তৈরি করেন শেলটন। প্রথমটি কাজে না লাগলেও পরের সুযোগেই টিয়াফোর ডাবল ফল্টে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
অন্যদিকে খাচানভের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিলেন জভেরেভ। চলতি বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা পাওয়া এই জার্মান তারকা এবার ইউএস ওপেনেরও অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী।
টুর্নামেন্টের শুরুতে অবশ্য কিছুটা ধীরগতির ছিলেন জভেরেভ। প্রথম দুই ম্যাচেই পাঁচ সেটের লড়াই করতে হয়েছিল তাকে। তবে এরপর থেকে টানা চার ম্যাচে কোনো সেট না হেরেই ফাইনালে পৌঁছেছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে জভেরেভ জানান, দ্বিতীয় রাউন্ডের পর রাত ৩টার দিকে দলের সঙ্গে বসে নিজের খারাপ পারফরম্যান্স নিয়ে হাসাহাসি করেছিলেন। সেই সময়ের ইতিবাচক মানসিকতাই তাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।
ফলে রোববারের শেলটন-জভেরেভ ফাইনাল শুধু ইউএস ওপেনের শিরোপা নির্ধারণ করবে না, এর মধ্য দিয়ে পুরুষ টেনিসে নতুন ইতিহাসও রচিত হতে পারে।

