ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি দেখেছি—চারপাশে, পরিবারে, সমাজে। অথচ অদ্ভুতভাবে রাজনীতি কখনোই আমাকে টানেনি। বরং যারা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টাই করেছি সবসময়। দিনের পর দিন এই দেশের নোংরা ও নির্মম রাজনৈতিক বাস্তবতা দেখতে দেখতে এখন আর দেশটিতেই থাকার ইচ্ছা জাগে না।
আমাদের দেশে রাজনীতি মানে—অন্যকে পদদলিত করে নিজের স্বার্থ হাসিল করা। কে মরল, কে বাঁচল—সে হিসাবের কোনো মূল্য নেই। এখানে মানবতা নয়, ক্ষমতাই শেষ কথা।
একদিকে ক্ষমতাধর পরিবারের সন্তানরা বিদেশে বিলাসী জীবন উপভোগে ব্যস্ত। তাদের কাছে রাজনীতি একটি স্টাইল, একটি পরিচিতি, কিংবা প্রয়োজনমতো ব্যবহারযোগ্য একটি পরিচয়মাত্র। অন্যদিকে মাঠে থাকা কর্মীরা সেই সাজানো রাজনীতির কাঁচামাল—যাদের ব্যবহার শেষে নির্বিকারভাবে ছুঁড়ে ফেলা হয়।
আজ একজন নেতা নিরাপদে বিদেশের তুষারপাত উপভোগ করে, আর সেই একই নেতার নাম বুকে ধারণ করা একজন কর্মী দিনের পর দিন কারাগারের অন্ধকারে পড়ে থাকে। এই বৈষম্য কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটি একটি পরিকল্পিত বাস্তবতা।
বিশ্বাস ও আনুগত্যই এখানে সবচেয়ে বেশি শোষিত হয়। যাদের অভিভাবক ভেবে আঁকড়ে ধরা হয়, সংকটের মুহূর্তে তারাই প্রথম অদৃশ্য হয়ে যায়। ক্ষমতা থাকলে ফিরে আসা যায়, পদ-পদবিও জোটে। কিন্তু যাদের জীবন ভেঙে পড়ে, যাদের পরিবার ধ্বংস হয়—সেই ক্ষতি আর কখনো পূরণ হয় না।
এই রাজনীতির চরিত্র অত্যন্ত স্পষ্ট—প্রয়োজনে ব্যবহার, বিপদে বিসর্জন। এটাই এ দেশের রাজনীতির সবচেয়ে নির্মম সংস্কৃতি।
এই সত্যটি অনুধাবন করা জরুরি। অন্যের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ, পরিবার ও সম্মানকে বাজি রাখার কোনো অর্থ নেই।
কারণ ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—
ক্ষমতাবানরা পালিয়ে যায়,
আর দায়টা শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে মাঠের কর্মীদের ওপরই।
-এস এম সাবিহা জামান
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক সময়পত্র

