সময়পত্র ডেস্ক: টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও একের পর এক ভূমিধসে ভারতের উত্তরাখণ্ডে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে রাজ্যটিতে শিশু ও নারীসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগের কারণে পিথোরাগড়, নৈনীতাল ও বাগেশ্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
উত্তরাখণ্ড রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও ভূমিধসে দুটি জাতীয় মহাসড়কসহ মোট ১৭২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। টিহরীতে ৩৪ নম্বর এবং বাগেশ্বরে ১০৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।
এদিকে গোলা নদী থেকে ২৭ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়ায় হলদোয়ানি ও উধম সিংহ নগরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খকরা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।
দুর্যোগে পৌড়ীর কোটদ্বারে নদীর স্রোতে ভেসে মা ও দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অলমোড়ার হবালবাগে বসতবাড়ি ধসে দুই নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ধারের টুনি এলাকায় ভূমিধসে চাপা পড়ে দুই নেপালি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নৈনীতাল, চম্পাবত, উধম সিংহ নগর ও পিথোরাগড় জেলায় বুধবার পর্যন্ত সব স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গঙ্গার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বারাণসীর ঐতিহাসিক ৮৪টি ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। চিত্রকূটে মন্দাকিনী নদীর পানি বেড়ে রামঘাট ও নির্মোহী আখড়াসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, প্রতাপগড়ে ১৪৭ মিলিমিটার এবং সোনভদ্রে ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ২০টিরও বেশি জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।
এদিকে ঝাড়খণ্ডেও ব্যাপক পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। গরওয়া, পলামু, লাতেহার ও সিমডেগাসহ ১০টি জেলায় এ সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে গরওয়া, পলামু, সিমডেগা ও পশ্চিম সিংভূমে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ‘লাল সতর্কতা’ জারি রয়েছে।

