সময়পত্র ডেস্ক: দেশের বাজারে অত্যাবশ্যকীয় ১১৭টি ওষুধের বেশিরভাগই বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রযুক্তির উন্নয়নে কিছু ওষুধের চাহিদা কমে যাওয়া, কাঁচামালের সংকট এবং উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় কয়েকটি ওষুধের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
১৯৯৪ সালে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নির্ধারণ করে সরকার। তবে সময়ের সঙ্গে চিকিৎসা প্রযুক্তির পরিবর্তন ও নতুন ধরনের ওষুধ বাজারে আসায় তালিকাভুক্ত অনেক ওষুধের ব্যবহার কমেছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ব্যথানাশকসহ কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধও এখন বাজারে খুব কম পাওয়া যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু ওষুধের কাঁচামালের দাম বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে সেগুলোর মূল্য সমন্বয় করা হয়নি। ফলে উৎপাদন খরচ ও নির্ধারিত দামের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এতে কোম্পানিগুলো কম দামের পুরোনো ওষুধ উৎপাদনের বদলে তুলনামূলক বেশি দামের নতুন ওষুধ বাজারজাত করতে আগ্রহী হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের দাম নির্ধারণে একদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ—দুই বিষয়ই বিবেচনায় নিতে হবে। দাম অতিরিক্ত কম হলে উৎপাদকরা আগ্রহ হারাতে পারেন, আবার বেশি হলে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা কঠিন হয়ে পড়ে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশই ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চলে যায়। তাই সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনা জরুরি।

