সময়পত্র ডেস্ক: তিন পৃষ্ঠার হাতে লেখা বিদায়ী বার্তা। সেখানে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতি, আবেগ ও বিদায়ের কথা। তবে চিঠির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে নজর কেড়েছে মেসির ব্যবহার করা একটি বিশেষ কলম—যার নকশায় রয়েছে হ্যারি পটারের ‘টাইম-টার্নার’।
সোমবার (৩১ আগস্ট) আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময় কাটানোর পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন লিওনেল মেসি। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের বদলে হাতে লেখা তিন পৃষ্ঠার একটি চিঠির ছবি প্রকাশ করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
বিদায়ী বার্তার শেষ লাইনে মেসি লেখেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য। এগিয়ে চলো আর্জেন্টিনা!’
মেসির ব্যবহৃত সোনালি কলমটির মাথার অংশে রয়েছে ‘টাইম-টার্নার’-এর আদলে তৈরি নকশা। কলমের ওপরের দিকে পরিচিত বৃত্তাকার আকৃতি এবং মাঝখানে ছোট একটি বালিঘড়ি রয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, কলমটি হ্যারি পটার সিরিজ থেকে অনুপ্রাণিত।
হ্যারি পটার সিরিজে ‘টাইম-টার্নার’ এমন একটি কাল্পনিক জাদুকরী বস্তু, যার মাধ্যমে সময় পেছনে ফিরিয়ে নেওয়ার ধারণা দেখানো হয়েছে। কলমটির গায়ে কালো রঙে হ্যারি পটারের লোগোর পাশাপাশি ‘Department of Mysteries’ লেখা রয়েছে।
কলমটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ বিষয়টিকে নিছক কাকতালীয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, বিদায়ের মতো আবেগঘন মুহূর্তে মেসির এমন একটি কলম বেছে নেওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত কোনো ইঙ্গিত থাকতে পারে। মেসি ও তার পরিবার হ্যারি পটার সিরিজের ভক্ত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদায়ী বার্তায় মেসি জানান, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিচ্ছে। তবে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এটিই সঠিক সময় বলে মনে করছেন তিনি।
জাতীয় দলের জার্সির জন্য সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান মেসি। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জায়গা করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মেসির ভাষায়, জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে তিনি ভালোবেসেছেন, ভালোবাসেন এবং ভবিষ্যতেও ভালোবাসবেন। তবে এখন তার দেওয়ার মতো আর কিছু নেই এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে আসার সময় হয়েছে।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দলীয় সাফল্যে সমৃদ্ধ। তিনি জিতেছেন ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের স্বর্ণপদক এবং ২০২২ সালের ফিনালিসিমা।
কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মেসির জোড়া গোল এবং টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার জয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি।
রেকর্ডের দিক থেকেও আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি সবার ওপরে। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা, সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক অ্যাসিস্টের রেকর্ড তার দখলে। বিশ্বকাপেও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার তিনি।
দুই দশকের বেশি সময় আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠ মাতানোর পর মেসির বিদায় তাই শুধু একজন ফুটবলারের অবসর নয়; আর্জেন্টাইন ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও বর্ণিল অধ্যায়েরও সমাপ্তির ইঙ্গিত।

