সময়পত্র ডেস্ক: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের জন্য আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী নতুন এই ইউনিটের কাঠামো, দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়ে বেশ কিছু বিধান রাখা হয়েছে।
এসআরবির প্রধান দায়িত্ব
খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি কাজ করবে –
- অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়
- গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশেষ অভিযান পরিচালনায়
- মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে
- সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলায়
- অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে
- সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে
কে নেতৃত্ব দেবেন
এসআরবির মহাপরিচালক (ডিজি) হবেন পুলিশের অন্যূন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। তিনি বাহিনীর প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারের অনুমোদন নিয়ে তিনি এসআরবিকে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন কাঠামোয় সাজাতে পারবেন।
তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা
খসড়ায় বলা হয়েছে, তল্লাশি, আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এসআরবির কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার সমান ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।
আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশে এসআরবির মহাপরিচালক কোনো ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের নির্দেশও দিতে পারবেন। তবে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার সদস্যকে।
জবাবদিহিতার ব্যবস্থাও থাকছে
এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
কমিটিতে থাকবেন –
- এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি
- পুলিশ অধিদফতরের এআইজি বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তা
- এসআরবির পরিচালক (লিগ্যাল ও মিডিয়া), সদস্য সচিব হিসেবে
- মানবাধিকার বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বিশেষজ্ঞ
খসড়ায় বলা হয়েছে, এই কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
অর্থাৎ, প্রস্তাবিত আইনে এসআরবিকে বিশেষ অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট জবাবদিহি কাঠামোর মধ্যেও রাখার কথা বলা হয়েছে।

