সময়পত্র ডেস্ক: ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে অন্তত ১৫৩ জন বেসামরিক নিহত এবং আরও ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের এক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত এসব বেসামরিক হতাহতের সব ঘটনাই ইয়েমেনে চালানো তিনটি মার্কিন হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাত্র দুজন বেসামরিক নিহত ও দুজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল পেন্টাগন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ইয়েমেনে চালানো ওই তিন হামলায় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি ছিল বলে মূল্যায়ন করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
তবে ইয়েমেনে মার্কিন অভিযানে বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইয়েমেনে আরও ১৫টি ঘটনার মূল্যায়ন চলছিল। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ঘটনা তদন্ত করছে সেন্টকম।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা কমানোকে মার্কিন অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরের হামলা হিসাবের বাইরে
পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাব নিয়ে আরেকটি বিষয়ও নজরে এসেছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর চালানো কিছু সামরিক অভিযানের হতাহতের তথ্য এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন সাদার্ন কমান্ডের মূল্যায়নে ২০২৫ সালে তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় এমন কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি, যেখানে মার্কিন অভিযানে বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা বেশি ছিল।
তবে এসব অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রাণহানি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটন এসব লক্ষ্যবস্তুতে থাকা ব্যক্তিদের ‘নার্কো-টেররিস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হামলাগুলোর আইনগত বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এসব অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নতুন পেন্টাগন রিপোর্ট প্রকাশের পর মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের হিসাব, সামরিক শক্তি ব্যবহারের বৈধতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

