ক্রীড়া ডেস্ক: মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর কারণে লিগস কাপের ম্যাচে মাঠে ছিলেন না ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে ম্যাচজুড়ে বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও মেসির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ক্লাব, সতীর্থ ও সমর্থকেরা। আবেগঘন এই ম্যাচে মেসির জার্সি প্রদর্শন করে গোল উৎসর্গ করেছেন তার ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। যদিও শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর ক্লাব মন্তেরেইয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে মায়ামি।
শনিবার (৮ আগস্ট) আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি হাসপাতালে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সেদিন রাতেই রোজারিও পৌঁছান মেসি। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মরণসভায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম। তবে কবে তিনি মায়ামিতে ফিরবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মায়ামির নু স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে হোর্হে মেসির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় তার নাম প্রদর্শন করা হয়। মায়ামির খেলোয়াড়েরা মাঠে নামেন কালো আর্মব্যান্ড পরে।
ম্যাচের ১০ মিনিটে মেসির জার্সি নম্বরকে প্রতীকীভাবে স্মরণ করে গ্যালারি থেকে সমর্থকেরা তার প্রতি সংহতি জানান। এ সময় ‘ফুয়ের্সা লিও’—অর্থাৎ ‘শক্ত থাকো লিও’ লেখা পতাকাও প্রদর্শন করা হয়।
মেসির অনুপস্থিতিতে এদিন মায়ামির অধিনায়কত্ব করেন রদ্রিগো ডি পল। ম্যাচের ৩২ মিনিটে গোল করে মেসিকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। গোলের পর নিজের জার্সি খুলে মেসির ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করেন ডি পল।
তবে শেষ পর্যন্ত জয় পায় মন্তেরেই। হুগো কুইপার্সের গোলে সমতায় ফেরার পর ম্যাচের শেষ দিকে দিয়েগো রসির গোলে জয় নিশ্চিত করে মেক্সিকান ক্লাবটি। ফলে লিগস কাপের নকআউট পর্বে ওঠার পথে বড় ধাক্কা খেল ইন্টার মায়ামি।
ম্যাচের আগে মেসির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিল ইন্টার মায়ামি। দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির প্রতি সমর্থন জানান।
মেসির বাবার মৃত্যুর কারণে ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারও বাতিল করে ইন্টার মায়ামি। তবে মন্তেরেইয়ের কোচ ও সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস আলমেইদা সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মেসির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এবারের লিগস কাপে মায়ামির প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন মেসি। বুধবার আতলেতিকো দে সান লুইসের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি।
মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হোর্হে মেসির। তিনি দীর্ঘদিন মেসির এজেন্ট ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে তরুণ মেসিকে নিয়ে বার্সেলোনায় যান তিনি। পরে লা মাসিয়ার ট্রায়ালের মাধ্যমে মেসির সামনে খুলে যায় পেশাদার ফুটবলের দরজা।
২০০৫ সালে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর মেসি আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ২০২২ সালে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

