ডেস্ক রিপোর্ট: বর্ষা এলেই আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, টুপটাপ বৃষ্টি আর ভেজা বাতাসে অন্যরকম এক আবেশ তৈরি হয়। শ্রাবণের এমন দিনে প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ রূপের সঙ্গে অবধারিতভাবেই মনে পড়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। বৃষ্টির শব্দে, মেঘের গর্জনে কিংবা ভেজা মাটির গন্ধে যেন ফিরে আসে তার অমর সৃষ্টি।
‘ঝরো ঝরো মুখর বাদর দিনে’—বর্ষার এমন এক দিনে প্রিয় মানুষটির অনুপস্থিতি যেমন মনকে ব্যাকুল করে, তেমনি রবীন্দ্রনাথের গানও বাঙালির হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে প্রেম, বিরহ ও অপেক্ষার অনুভূতি।
রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে বর্ষা নিছক একটি ঋতুর নাম নয়। কখনও বৃষ্টি হয়ে ওঠে ভালোবাসার ভাষা, কখনও বিরহের দীর্ঘশ্বাস, আবার কখনও অপেক্ষা ও অজানাকে আপন করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। প্রকৃতির পরিবর্তনশীল রূপের সঙ্গে মানুষের মনের সূক্ষ্ম আবেগকে তিনি এমনভাবে মিলিয়েছেন, যা বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে আজও অনন্য।
মেঘের ডাক, বৃষ্টির ছন্দ, কদমের সুবাস কিংবা শ্রাবণের স্নিগ্ধতা—সবকিছুর মধ্যেই যেন ছড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির আবেশ। তাই বর্ষার প্রকৃতি দেখলেই তার গান ও কবিতার পঙ্ক্তি নতুন করে মনে পড়ে।
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট, বাংলা ১৩৪৮ সালের ২২ শ্রাবণ। কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শ্রাবণের সেই বেদনাবিধুর দিন পেরিয়ে গেছে ৮৫ বছর।
তবুও সময় তাকে আমাদের কাছ থেকে দূরে সরাতে পারেনি। বরং বর্ষার প্রতিটি বৃষ্টিধারা, প্রতিটি মেঘলা বিকেল কিংবা জানালায় টুপটাপ বৃষ্টির শব্দে নতুন করে ফিরে আসেন তিনি। ভেজা বাতাসে কদমের গন্ধ মিশলে কোথাও যেন বেজে ওঠে রবীন্দ্রসংগীত।
প্রকৃতির রূপান্তরের সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের যে গভীর সম্পর্ক, রবীন্দ্রনাথ তারই এক অনন্য ভাষ্যকার। প্রেম, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব, আনন্দ, প্রকৃতি কিংবা মুক্তির আকাঙ্ক্ষা—জীবনের প্রতিটি অনুভূতিতে তাকে আবিষ্কার করা যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপে।
মেঘ-বৃষ্টির ঘনঘটায় যখন প্রকৃতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়, তখন বাঙালির মনেও জেগে ওঠে রবীন্দ্রসৃষ্টির অমলিন সুর। তাই বর্ষা যতবার ফিরে আসে, ততবারই মনে হয়—প্রকৃতির এই মুখর বাদল দিনে, তারে পড়ে মনে।

