ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে সমর্থকদের ফুটবলের মধ্যেই আবেগ সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রবীণ যোদ্ধাদের সংগঠন ‘এপ্রিল ২ ওয়ার ভেটেরান্স ফেডারেশন’। দক্ষিণ আটলান্টিকের মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের দাবিকে যেন ম্যাচের সঙ্গে না জড়ানো হয়, সেই অনুরোধও জানিয়েছে সংগঠনটি।
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড বা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ হয়েছিল। ওই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য নিহত হন। দ্বীপপুঞ্জটি নিয়ে এখনো দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ রয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ কোনো সশস্ত্র প্রতিশোধ বা ইতিহাসের ক্ষতিপূরণ নয়। একই সঙ্গে যুদ্ধে নিহত আর্জেন্টাইন সেনাদের স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে না দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনীতি, ঐতিহাসিক সত্য এবং সংবিধানে স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ দাবির মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া উচিত।
সংগঠনটি আরও জানায়, খেলার আবেগ এবং জাতীয় স্বার্থের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি। মাঠে ফুটবলই মুখ্য হবে, জাতীয় পতাকার প্রতি গর্ব থাকবে, তবে ইতিহাসের স্মৃতিও অক্ষুণ্ন থাকবে।
বর্তমানে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে যুক্তরাজ্য এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনৈতিকভাবে নিজেদের দাবি অব্যাহত রেখেছে।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সমর্থক ও কয়েকজন খেলোয়াড়কে মালভিনাস, কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপাকে ঘিরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
তবে সেমিফাইনালকে ঘিরে রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক উত্তেজনা প্রশমিত করার চেষ্টা করছেন আর্জেন্টিনা দলের সদস্যরাও। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো বিষয় গুরুত্ব পাবে না।

