ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসরে লাল কার্ড দেখেছিলেন মাত্র চারজন খেলোয়াড়। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই লাল কার্ড দেখেন তিন খেলোয়াড়। শুরু থেকেই কঠোর রেফারিংয়ের আভাস মিললেও রাউন্ড অব ১৬ শেষে এবারের টুর্নামেন্টে লাল কার্ডের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৩-তে।
এ পর্যন্ত ৯৬টি ম্যাচ শেষে দেখানো ১৩টি লাল কার্ড ২০১৮ ও ২০২২—এই দুই বিশ্বকাপে মিলিয়ে দেখানো মোট ৮টি লাল কার্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এবারের সবগুলোই সরাসরি লাল কার্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল ২০০৬ সালে। সে আসরে সরাসরি লাল কার্ড ছিল ৯টি।
দেশভিত্তিক হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি দুটি করে লাল কার্ড দেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতার। এছাড়া মেক্সিকো, ইরাক, বেলজিয়াম, উরুগুয়ে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইংল্যান্ড, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন।
রাউন্ড অব ১৬-এ মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। তবে ১০ জনের দল নিয়েও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
অন্যদিকে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে গোল করার পর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গোড়ালিতে পা দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেন। পরে ফিফা তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া স্পেনের বিপক্ষে বিপজ্জনক ট্যাকলের জন্য উরুগুয়ের আগুস্তিন কানোব্বিও, প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপিয়ে এবং ইরানের বিপক্ষে বেপরোয়া ট্যাকলের কারণে বেলজিয়ামের নাথান এনগয়ও সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।
গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর উদ্বোধনী লড়াই। সেই ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেপেলো সিথোলে ও থেম্বা জোয়ানে এবং মেক্সিকোর সিজার মন্তেস মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। পরে সহিংস আচরণের দায়ে থেম্বা জোয়ানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে তিন ম্যাচ করা হয়।
এ ছাড়া কাতারের হোমাম আহমেদ ও আসিম মাদিবো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার তারিক মুহারেমোভিচ, ইরাকের রেবিন সুলাকা এবং প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরনও এবারের বিশ্বকাপে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন।
সর্বশেষ ছয় বিশ্বকাপে লাল কার্ডের পরিসংখ্যান
- ২০২৬: ১৩টি (সবগুলোই সরাসরি লাল কার্ড)
- ২০২২: ৪টি (১টি সরাসরি)
- ২০১৮: ৪টি (২টি সরাসরি)
- ২০১৪: ১০টি (৭টি সরাসরি)
- ২০১০: ১৭টি (৯টি সরাসরি)
- ২০০৬: ২৮টি (৯টি সরাসরি)

