নিজস্ব প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের গ্রিন কার্ড আবেদনের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড পেতে আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।
শুক্রবার এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয় ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। সংস্থাটি দাবি করছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল কাঠামোয় ফিরিয়ে আনা এবং বিভিন্ন ফাঁকফোকর বন্ধ করা হবে।
তবে নতুন এই নীতির বিরোধিতা করেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও সহায়তাকারী সংগঠনগুলো। তাদের আশঙ্কা, এতে লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
বাইডেন প্রশাসনের সময় ইউএসসিআইএস-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ডাগ র্যান্ড বলেন, বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আরও কঠিন করে তোলা।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ছয় লাখ মানুষ প্রতি বছর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। নতুন নীতির কারণে তাদের অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন।
এদিকে নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি ইউএসসিআইএস। আবেদন চলাকালে বিদেশে অবস্থান বাধ্যতামূলক হবে কি না কিংবা বর্তমানে যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের ওপর এই নীতি প্রযোজ্য হবে কি না—এসব বিষয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে—
* মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর
* মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের ওপর
* কর্মভিসায় থাকা চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের ওপর
* শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ওপর
* ধর্মীয় ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের ওপর
সমালোচকদের দাবি, বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন নীতির কারণে অনেককে এমন দেশে ফিরতে হতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বা কার্যকর মার্কিন দূতাবাস নেই।
উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তানের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ হয়ে যায়।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেভ দালাল-ধেইনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের প্রচলিত স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে।
তিনি আরও জানান, অনেক মার্কিন দূতাবাসে ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

