ডেস্ক রিপোর্ট: প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে আসন্ন অর্থবছরেও সামরিক খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। উন্নত যুদ্ধপ্রযুক্তি সংগ্রহ, নৌবাহিনী সম্প্রসারণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামান। বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যেখানে প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ৬ লাখ ৮১ হাজার কোটি রুপি, সেখানে নতুন অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি রুপি বেশি। বরাদ্দের মধ্যে মূলধন ব্যয়ে রাখা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি রুপি এবং রাজস্ব খাতে ব্যয় হবে আনুমানিক ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপি। দুই খাতেই বরাদ্দ বৃদ্ধির হার ১৭ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
নতুন বাজেট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, এবারের বরাদ্দ বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এটি আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এই বাজেট জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভিশন ২০৪৭’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী ভারত গঠনে এই বরাদ্দ একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ২ দশমিক ১৯ লাখ কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে রাফাল যুদ্ধবিমান, আধুনিক সাবমেরিন, ড্রোনসহ বিভিন্ন উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে বিমান শিল্পের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। বেসামরিক ও প্রশিক্ষণ বিমান তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি বিমান যন্ত্রাংশের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত কাঁচামালেও কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকীকরণই এখন নয়াদিল্লির প্রধান লক্ষ্য বলে বিশ্লেষকদের মত।
এদিকে, নতুন অর্থবছরের বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তা খাতেও অর্থ বরাদ্দ রেখেছে ভারত। ভুটানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপির বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নেপাল পাবে ৮শ কোটি, শ্রীলঙ্কা ৪শ কোটি এবং আফগানিস্তানকে দেওয়া হবে দেড়শ কোটি রুপি।
বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ কোটি রুপি। আগের অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিকভাবে ১২০ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটি রুপিতে নামানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট সাধারণত দুই ভাগে উপস্থাপন করা হয়—‘পার্ট এ’ ও ‘পার্ট বি’। প্রথম অংশে সরকারের নীতি ও নতুন কর্মসূচির ঘোষণা থাকে, আর দ্বিতীয় অংশে আয়কর ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়।

