ভরা মৌসুম চললেও রাজধানীর বাজারে মাছ ও সবজির দামে স্বস্তি মিলছে না। লেবু, শসাসহ একাধিক সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। একই সঙ্গে মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দামের চাপ অনুভব করছেন ভোক্তারা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু সবজির দাম এখনও নাগালের বাইরে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, ভালো মানের সবজি সংগ্রহ করতে গিয়ে খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা দামে।
মিঠা পানির মাছের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে বলে দাবি করা হলেও দামে তার ছাপ নেই। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চাহিদা বাড়ার সুযোগে অনেক বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে দেন। বাজারে ইলিশের উপস্থিতি কিছুটা বাড়লেও দাম রয়েছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে চাষের মাছের দামে বড় ধরনের ওঠানামা নেই।
বর্তমানে দেশি মাছের মৌসুম চলছে। নদী, খাল ও বিলের পানি কমে যাওয়ায় বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির মিঠা পানির মাছ আসছে। সরবরাহ ভালো থাকা সত্ত্বেও দাম কমছে না। বরং ছুটির দিনগুলোতে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম হাঁকানো হচ্ছে। আইড় ও বোয়াল মাছের দাম হাজার টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। চিংড়ি, সোল ও মাগুর মাছ কিনতে কেজিতে দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকারও বেশি। আর চাষের রুই-কাতলার দাম রয়েছে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের এই সময়টায় সাধারণত মাছের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। তবে মৌসুম না হলেও বাজারে যে কটি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম অত্যন্ত বেশি। কোথাও কোথাও এক কেজি ইলিশের দাম উঠেছে চার হাজার টাকা পর্যন্ত।
এদিকে বাজারে চিনির দামও গত দুই সপ্তাহে কিছুটা বেড়েছে। কয়েক দিন আগে যেখানে প্রতি কেজি চিনি ৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল, সেখানে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।
সোনালি মুরগির দাম মানভেদে কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি ডিমের দামও সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যা এর আগে ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে ছিল।

