ভারতে একদিন হিজাব পরা কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন—এমন আশাবাদী মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মধ্যে শুরু হয়েছে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ।
মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে এক নির্বাচনী সমাবেশে ওয়াইসি ভারতের সংবিধানের উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো কিছু দেশে নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষই সরকারপ্রধান হতে পারেন, কিন্তু ভারতের সংবিধান সে ধরনের কোনো বাধা দেয় না। বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো ভারতীয় নাগরিক প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মেয়র হতে পারেন। সেখান থেকেই তিনি বলেন, তার স্বপ্ন—একদিন হিজাব পরা কোনো কন্যা এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
এই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি স্বীকার করেন, সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় কোনো বাধা নেই। তবে তার দাবি, ভারত একটি হিন্দু জাতি ও সভ্যতার দেশ, তাই তিনি মনে করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী সব সময় একজন হিন্দুই হবেন।
এরপর নাগপুরে সাংবাদিকদের সামনে শর্মার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, হিমন্তের মাথায় ‘টিউবলাইট’ আছে এবং সংবিধানে এমন কথা কোথাও লেখা নেই। ওয়াইসির মতে, পাকিস্তানে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য শীর্ষ পদ সীমাবদ্ধ, সেখানে ভারতের সংবিধান অনেক বেশি উদার, যুক্তিবাদী ও শিক্ষিত চিন্তার প্রতিফলন।
ওয়াইসি আরও বলেন, যারা সংবিধান বোঝে না তারাই এমন সংকীর্ণ মন্তব্য করে। তার ভাষায়, এই দেশ শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়—এটি ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিকদেরও সমানভাবে।
এদিকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়াল্লা ওয়াইসির বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আগে তিনি নিজ দল এআইএমআইএমের শীর্ষ পদে কোনো হিজাব পরা নারীকে বসান, তারপর এমন কথা বলুন।
এই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে মুম্বাইয়ের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান প্রচারের মধ্যেই। নির্বাচন হবে ১৫ জানুয়ারি এবং ফল প্রকাশ করা হবে ১৬ জানুয়ারি।

