ডেস্ক রিপোর্ট :
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজার অস্থির। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার এখনও তুলনামূলকভাবে উচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করছে।
সাম্প্রতিক বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের মুদ্রার বিনিময় হার প্রায় নিম্নরূপ—
মার্কিন ডলার (USD): প্রায় ১২২ টাকা
ইউরো (EUR – ইউরোপীয় ইউনিয়ন): প্রায় ১৪২ টাকা
ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP – যুক্তরাজ্য): প্রায় ১৬১–১৬২ টাকা
কানাডিয়ান ডলার (CAD): প্রায় ৯০ টাকা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD): প্রায় ৮০ টাকা
সিঙ্গাপুর ডলার (SGD): প্রায় ৯১ টাকা
সৌদি রিয়াল (SAR): প্রায় ৩২–৩৩ টাকা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম (AED): প্রায় ৩৩ টাকা
কুয়েতি দিনার (KWD): প্রায় ৩৯৮ টাকা
চীনা ইউয়ান (CNY): প্রায় ১৭ টাকা
জাপানি ইয়েন (JPY): ১ টাকারও কম
ভারতীয় রুপি (INR): প্রায় ১ টাকা ৩৫ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): প্রায় ২৬ টাকা
থাই বাত (THB): প্রায় ৩.৪ টাকা
দক্ষিণ কোরিয়ান উন (KRW): ১ টাকারও কম
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রার সঙ্গে টাকার বিনিময় হার প্রবাসী আয় ও শ্রমবাজারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ডলারের আধিপত্য
বিশ্ববাজারে ডলারের শক্ত অবস্থান অনেক দেশের মুদ্রাকে চাপের মুখে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার নীতি দীর্ঘদিন কঠোর থাকায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রায় পড়ছে।
টাকার ওপর প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ
দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আমদানিনির্ভর অর্থনীতি এবং বৈদেশিক লেনদেনের চাপ টাকার ক্রয়ক্ষমতাকে দুর্বল করছে। যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে, তবুও আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ টাকার ওপর প্রভাব ফেলছে।
সার্বিক চিত্র
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্ব মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশি টাকা আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও বড় মুদ্রাগুলোর বিপরীতে চাপের মুখেই রয়েছে। ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার একাধিক দেশের মুদ্রার উচ্চমূল্য দেশের আমদানি ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

