বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নিইগাতা প্রদেশের স্থানীয় সরকারের ভোটাভুটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রীয় সরকারও ইতিবাচকভাবে দেখছে। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা। সংসদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে সেখানে প্রায় ৩০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল— “কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালুর বিপক্ষে আমরা।”
বিশ্লেষকদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য পূরণে জাপান ধীরে ধীরে পারমাণবিক শক্তির দিকে ফিরছে। ২০১১ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর জনমতের চাপে দেশটির সব ৫৪টি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে জাপানে কার্যক্ষম ৩৩টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি পুনরায় চালু করা হয়েছে। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) পরিচালনা করবে, যা ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর তাদের পরিচালনায় প্রথম বড় পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

