বিশেষ প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা দেখতে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলার রামকৃষ্ণপুর এম এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীমনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও আন্তর্জাতিক নদীর ন্যায্য পানির অধিকার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন।

ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান বলেন, এটি একটি নির্মল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ বিনোদনের উদাহরণ, যেখানে সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। নবান্ন মৌসুমে কৃষকদের উদ্যোগে এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন গ্রামবাংলার সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখে উল্লেখ করে তিনি এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেন।
এ সময় তিনি সাম্প্রতিককালে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোনাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কবিরুজ্জামান উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানিকগঞ্জ জেলা আমীর হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. সাহিদুর রহমান খান, হরিরামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাফেজ লোকমান হোসেন, মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট জহির এবং আয়োজক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাহিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ১৭ জন ঘোড়সওয়ার অংশ নেন। এতে মোট ৩০টি ঘোড়া চারটি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী চ্যাম্পিয়নদের মাঝে ৩২ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়

