নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইরান–ইসরাইলের সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিশদ তথ্য তুলে ধরেছেন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী-মোহাম্মদ নায়েনি। এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, তেহরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া ছিল “তাৎক্ষণিক, সমন্বিত ও বহুস্তরীয়”।
মেহের নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়—ইসরাইল তেহরানের একটি জ্বালানি ডিপোতে হামলা চালানোর মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান দুটি পৃথক আঘাতে হাইফা শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। ইসরাইলি সূত্রগুলো এই আঘাতকে “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মাস্টারপিস” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জেনারেল নায়েনি জানান, ইসরাইল যখন ইরানের একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র টার্গেট করে, তার পরপরই ইরান মোসাদের একটি সাইটে পাল্টা হামলা চালায়। এ হামলায় ৩৬ জন নিহত হন বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্যে, সংঘাত শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান “ট্রু প্রমিজ ৩” নামে এক সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করে—যা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার অপারেশন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। আইআরজিসি’র মতে, ইরান সংঘাতে প্রবেশ করে “সম্পূর্ণ গোয়েন্দা আধিপত্য এবং বিস্তৃত তথ্য–ভাণ্ডার” নিয়ে।
তিনি আরও দাবি করেন, সংঘাত চলাকালীন ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা ক্ষয়ক্ষতি ছিল ইরানের তুলনায় “অবশ্যই বেশি”।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ জুন ওয়াশিংটন–তেহরান পারমাণবিক আলোচনার সময় ইসরাইল হঠাৎ আক্রমণ শুরু করলে ১২ দিনের যুদ্ধের সূচনা হয়। এতে ইরানে অন্তত ১,০৬৪ জন নিহত হন—যাদের মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিকও ছিলেন।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রও এই সংঘাতে জড়ায় এবং ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় বলে দাবি করেছে তেহরান। এর জবাবে ইরান দখলকৃত অঞ্চলগুলোর কৌশলগত স্থাপনা ও কাতারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

