ডেস্ক রিপোর্ট:
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’–এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাখ লাখ পরিবার। নতুন বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছে শ্রীলঙ্কা।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নয় শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দলগুলো। এখনও আড়াইশোর বেশি মানুষ নিখোঁজ। আচেহ প্রদেশের তামিয়াং অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি—সেখানে ৯০ শতাংশেরও বেশি ভবন বিধ্বস্ত। প্রায় ৩০০ পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপণ্যের সংকটে ভুগছেন আক্রান্ত এলাকাবাসী। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে শুধুমাত্র হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ত্রাণ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে বাস্তুচ্যুতদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২০০ জনের মতো। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি ভবন, পাশাপাশি পানিতে তলিয়ে গেছে বহু কৃষিজমি। গত দুই দিনে দেশটিতে নতুন করে ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং বন্যার পরিস্থিতি আরও অবনতি পাচ্ছে। জরুরি সহায়তায় অতিরিক্ত সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার।
সরকারি হিসাবে দেখা যাচ্ছে—বন্যা ও ভূমিধসের কারণে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি ডলার। এমন অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট দিশানায়েক আইএমএফের কাছে কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন।
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এখনো চলছে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, তবে নতুন বৃষ্টির সম্ভাবনা বিপর্যস্ত মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

