নিজস্ব প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের সরফদিনগর গ্রাম থেকে বিপন্ন প্রজাতির একটি আহত মেছোবাঘ উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণীটিকে বাঁচানো যায়নি। এদিকে মেছোবাঘ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় জমে যায়।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে আওলাদ হোসেন ভুলুর বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে হাঁটতে থাকা অবস্থায় ঝিমুনি ও দুর্বলতায় ভুগতে দেখে গ্রামবাসী বাঘটিকে ঘিরে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা পলো ব্যবহার (মাছ ধরার যন্ত্র) করে সেটিকে জীবিত অবস্থায় আটক করেন। তবে জীবীত অবস্থায় উদ্ধার হলেও প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি মারা যায়।
স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আওলাদ হোসেন ভুলু জানান, বাঘটি আগেই আহত ছিল এবং গ্রামবাসী তাকে কোনো আঘাত করেনি। একই গ্রামের নাসির উদ্দীন বলেন, তিন মাস আগে এলাকায় তিনটি মেছোবাঘ দেখা গিয়েছিল—মারা যাওয়া বাঘটিকে তারা সেই দলেরই একটি শাবক বলে ধারণা করছেন। গ্রামবাসীর দাবি, এলাকায় আরও মেছোবাঘ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। খাবারের সন্ধানে গ্রামে ঢুকে বাঘটি বিপদের মুখে পড়েছে বলে তারা মনে করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, বাঘটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি মারা যায়। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগের লোক পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, মেছোবাঘটির মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় স্যাম্পল সংগ্রহ করে এরপর সেটিকে মাটিতে পুঁতে রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী দেখা গেলেই আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে নিরাপদে তাদের উদ্ধার করা যায় সে বিষয়ে গ্রামীণ জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে।

