সময়পত্র ডেস্ক: নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। সীমান্তের উভয় পাশে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ডে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে সীমান্তের তিব্বত অংশে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৩ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২০ জনে।
প্রশাসনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সীমান্তের দুই পাশে এখনো সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে ভয়াবহ ঢলের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
প্রলয়ংকরী এই দুর্যোগে নেপালে ৪০০ বিলিয়ন নেপালি রুপির বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে জরুরি ঋণ সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে নেপাল সরকার।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে আহতদের চিকিৎসা দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা। দুর্গত বিদুর পৌর এলাকার ১৫টি খাবার পানির উৎসের মধ্যে পাঁচটিতে ক্ষতিকর ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মহামারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

