সময়পত্র ডেস্ক: শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলায় জুরি ট্রায়ালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মামলায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচারে পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, তরুণ ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ধরে রাখতে মেটা বিভিন্ন ফিচার ও অ্যালগরিদম ব্যবহার করে। এসব ব্যবস্থার কারণে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলায় ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইনফিনিট স্ক্রল সুবিধা বাতিল, ভিডিওর স্বয়ংক্রিয় প্লে বন্ধ, চেহারা পরিবর্তনকারী কিছু ফিল্টার সরিয়ে নেওয়া এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া কিশোরদের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করার দাবিও উঠেছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নিয়মিত নোটিফিকেশন পাঠিয়ে তরুণদের বারবার অ্যাপ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। বিশেষ করে ‘লাইক’ কাউন্ট তরুণদের মধ্যে অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
মামলায় মেটার নিজস্ব গবেষণার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লাইক কাউন্টের সঙ্গে তরুণদের মধ্যে একাকিত্ব, নিজের শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং মানসিক অস্বস্তির সম্পর্ক থাকার কথা উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে প্রায় ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি কিশোরদের জন্য লাইক কাউন্ট বন্ধসহ কয়েকটি পরিবর্তনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
৩০ অঙ্গরাজ্যের মামলায় মেটা হেরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের তরুণ ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ এসব অঙ্গরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বসবাস করে। ফলে মামলার রায় প্রযুক্তি জায়ান্টটির ওপর বড় ধরনের আর্থিক ও নীতিগত প্রভাব ফেলতে পারে।

