ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিলান প্রদেশে ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কমপক্ষে ৪৩ জনের সন্ধান মেলেনি। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় মধ্যরাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ‘ত্রিশা কেরস্টিন–৩’ নামের ফেরিটি বাসিলানের জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে মিন্দানাও অঞ্চলের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটিতে নিবন্ধিত ৩৩২ জন যাত্রী ও ২৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। মধ্যরাতের কিছু পরেই জাহাজটি যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ওই সময় সমুদ্রের আবহাওয়া স্বাভাবিক ছিল। যাত্রা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই ফেরিটি ডুবে যায়।
দ্বীপসমৃদ্ধ দেশ ফিলিপাইনে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতের জন্য এ ধরনের ফেরিই প্রধান ভরসা। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় স্থানীয় মাছ ধরার নৌকা, নৌবাহিনীর জাহাজ, নজরদারি বিমান ও হেলিকপ্টার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র রোনালিন পেরেজ জানান, এখন পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে ফেরি দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০২৩ সালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগেও, ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে একটি জ্বালানি ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ‘ডোনা পাজ’ নামের ফেরি ডুবে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

