কারাগারের ভেতর পরিচয়, সেখান থেকেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক বিয়েতে রূপ নিল—ভারতের রাজস্থান রাজ্যে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
নারী আসামি প্রিয়া শেঠ একটি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করছেন। অন্যদিকে, পুরুষ আসামি হনুমান প্রসাদের বিরুদ্ধে রয়েছে পাঁচটি খুনের অভিযোগ। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাগারে থাকার প্রায় ছয় মাসের মধ্যেই দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এই বিয়ের আয়োজনের জন্য রাজস্থানের আদালত উভয়কে ১৫ দিনের প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেয়।
যেসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত এই জুটি
২০১৮ সালের ২ মে প্রিয়া শেঠ তার তৎকালীন প্রেমিক ও এক সহযোগীর সঙ্গে মিলে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবককে হত্যা করেন। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা। সেই অর্থ দিয়ে প্রেমিকের ঋণ পরিশোধ করার ইচ্ছা ছিল তাদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুষ্যন্তের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তাকে একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেয় তারা। পরে তার বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
মুক্তি দিলে ভুক্তভোগী পুলিশে জানাতে পারেন—এই আশঙ্কায় দুষ্যন্ত শর্মাকে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং আদালত দোষী সাব্যস্ত করেন।
অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো আরও ভয়াবহ। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর তিনি তার প্রেমিকার নির্দেশে ওই নারীর স্বামী ও সন্তানদের হত্যা করেন। প্রেমিকা বয়সে বড় ছিলেন এবং একজন ক্রীড়াবিদ। সেদিন রাতে প্রেমিকা তাকে ডেকে পাঠান স্বামী ও সন্তানদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে। হনুমান এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে স্বামীকে হত্যা করেন। পরে শিশুরা জেগে উঠলে তাদেরও হত্যা করা হয়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।

