সাভারে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মশিউর রহমান খান ওরফে সম্রাট (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম। এর আগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার বাসিন্দা এবং মৃত সালামের ছেলে। তিনি ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন এবং সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে—সম্রাট প্রথমে সাভার পৌর এলাকার মডেল মসজিদের পাশে আসমা নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যা করেন। এরপর ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এক যুবকের হাত-পা বেঁধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ১১ অক্টোবর একই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এছাড়া, ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে এক পুরুষের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর কমিউনিটি সেন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে পুলিশ। সর্বশেষ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিকে শনাক্ত করা হয় এবং পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া সম্রাট প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এসব ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী, ওসি (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনসহ থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

