দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ১৯৭২ সালে শেষ অ্যাপোলো অভিযানের পর এই প্রথম মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথে পাঠানো হচ্ছে। নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে চারজন নভোচারীকে নিয়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হবে।
এই মিশনে নেতৃত্ব দেবেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান। তাঁর সঙ্গে পাইলট হিসেবে থাকছেন ভিক্টর গ্লোভার। মিশন বিশেষজ্ঞের দায়িত্বে থাকবেন ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন জেরেমি হ্যানসেন। এই অভিযানের বিশেষত্ব হলো—দলটিতে প্রথমবারের মতো একজন নারী ও একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
আর্টেমিস-২ মিশনে নাসার নিজস্ব উন্নত প্রযুক্তির ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেট ব্যবহার করা হবে। এই রকেটের মাধ্যমে নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথে স্থাপিত ‘গেটওয়ে’ স্পেস স্টেশনে পৌঁছাবেন। ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে একাধিক সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে রকেট উৎক্ষেপণের জন্য, যাতে আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত বিষয় বিবেচনায় সর্বোত্তম সময় বেছে নেওয়া যায়।
রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বাজেট সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নানা বাধা পেরিয়ে এই মিশন বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। সফল হলে আর্টেমিস-২ মিশন অ্যাপোলো-১৩–এর রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে মানুষের সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ যাত্রার নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

