আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড যেকোনো সময় কার্যকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করার জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর কারাজ থেকে এরফান সোলতানিকে আটক করা হয়। দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ যখন চরমে, ঠিক সেই সময় এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগমুহূর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আটক হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীর একজন।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, এরফানের পক্ষে একজন নিকটাত্মীয় আইনজীবী মামলা পরিচালনার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে বাধা ও হুমকি দেন। মামলার নথি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আইনজীবীকে জানিয়ে দেন, বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য কঠোরতম শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ভিন্নমত দমন এবং চলমান আন্দোলন ঠেকাতে ইরানি কর্তৃপক্ষ আবারও দ্রুত বিচার ও খামখেয়ালি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জানুয়ারি ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে এরফানের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তখনও স্পষ্ট করা হয়নি। পরে পরিবারকে জানানো হয়, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, চীনের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম। গত বছর দেশটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে। চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত ও বহু মানুষ আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

