জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রায় এক লাখে পৌঁছেছে। দীর্ঘায়ুর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত জাপানকে ঘিরে এই তথ্য সামনে আসার পর অনেকেই ভাবছেন—দীর্ঘ জীবন কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, নাকি সুখী জীবনই আসল?
এই প্রশ্নের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছেন মার্কিন জেরিয়াট্রিশিয়ান ডা. কেরি বার্নাইট। তিনি মনে করেন, শুধু বেশি বছর বেঁচে থাকাই যথেষ্ট নয়, সেই বছরগুলো আনন্দে কাটানোই আসল সাফল্য। তাই তিনি ‘লাইফস্প্যান’ ও ‘হেলথস্প্যান’-এর পাশাপাশি আরেকটি ধারণা তুলে ধরেছেন—‘জয়স্প্যান’, অর্থাৎ আনন্দময় জীবনের পরিসর।
বিশ্বের মানুষ প্রতিবছর বিপুল অর্থ খরচ করে দীর্ঘায়ুর পেছনে ছুটছে। কিন্তু সেই বাড়তি সময় যদি একাকীত্ব, হতাশা বা শূন্যতায় ভরা হয়, তবে তার মূল্য খুব কম—এমনটাই মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, জীবন কতটা লম্বা হলো নয়, বরং কেমন কাটল সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. কেরির ২০২৫ সালে প্রকাশিত বই Joyspan: The Art and Science of Thriving in Life’s Second Half–এ তিনি সুখী বার্ধক্যের জন্য চারটি অভ্যাসের কথা বলেছেন।
প্রথমত, সব সময় নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা ও কৌতূহলী থাকা। এতে মন সক্রিয় থাকে এবং জীবন একঘেয়ে হয়ে ওঠে না।
দ্বিতীয়ত, পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখা, যা একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করে।
তৃতীয়ত, জীবনের কঠিন মুহূর্তে মানসিকভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে তোলা—ধৈর্য ও দৃঢ়তা থাকলে বিপর্যয়ও সামলানো যায়।
চতুর্থত, অন্যের পাশে দাঁড়ানো ও সাহায্য করা, যা নিজেকেও এক ধরনের তৃপ্তি ও আনন্দ দেয়।
ডা. কেরি মনে করেন, এই অভ্যাসগুলো শুধু মন ভালো রাখে না, শরীরকেও সুস্থ রাখে। তার নিজের ৯৬ বছর বয়সী মায়ের জীবনই এর বড় উদাহরণ। নানা কষ্ট আর স্বজন হারানোর পরও তিনি প্রাণবন্ত ও আশাবাদীভাবে জীবন কাটাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জয়স্প্যান’ ধারণা আমাদের শেখায়—বার্ধক্য মানেই শেষ নয়। বরং সঠিক মনোভাব আর অভ্যাস থাকলে জীবনের শেষ অধ্যায়ও হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর ও অর্থবহ।

