ডেস্ক রিপোর্ট :
শীত এলেই কাঁচা খেজুরের রসের টানে ঢাকার অদূরবর্তী মানিকগঞ্জের সিংগাইর ও হরিরামপুরে বাড়ছে মানুষের ঢল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ও ভাইরাল ভিডিওর কারণে এ বছর রস পানকারীর সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। এতে করে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে সতর্ক করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিদিন গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকা, সাভার, কেরানীগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ দলবেঁধে ছুটছেন সিংগাইর ও হরিরামপুরের গ্রাম ও খেজুর বাগানগুলোতে। উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে রস পান, ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তাৎক্ষণিক অনলাইন প্রচার। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজধানীর কাছাকাছি হওয়ায় সিংগাইরে চাপ সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি হরিরামপুরের বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা গাছিপাড়া ও ভাদিয়াখোলা এলাকাতেও প্রতিদিন মানুষের ভিড় জমছে। প্রতি লিটার কাঁচা খেজুরের রস বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে।
সম্প্রতি বাল্লা ইউনিয়নের একটি খেজুর বাগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ রস পান করতে জড়ো হন। বাগানের ভেতরেই রস বিক্রি ও অনলাইন প্রচারণা চালানো হচ্ছে নিয়মিত।

খেজুরের কাঁচা রস নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উৎস। গত বছর মানিকগঞ্জে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হলেও চলতি মৌসুমে স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো বড় সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “নিপাহ ভাইরাস অত্যন্ত মরণব্যাধি। কাঁচা খেজুরের রসের মাধ্যমে এ ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একজন আক্রান্ত হলে পরিবার ও আশপাশের মানুষের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। কাঁচা রস পান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই একমাত্র নিরাপদ উপায়।”
আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৭ জন, যাদের মধ্যে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৫ বছরে দেশের ৩৫টি জেলায় এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশ্বে নিপাহ ভাইরাসের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ, যা এটিকে অন্যতম ভয়ংকর সংক্রামক রোগে পরিণত করেছে।
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলেন, “নিপাহ ভাইরাস এখন শুধু শীতকাল বা খেজুরের রসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি সারা বছরজুড়ে নতুন উৎসের মাধ্যমে সংক্রমণের হুমকি তৈরি করছে।” তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান না করা, অনলাইনে রস না কেনা এবং বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তিত সংক্রমণধারা ও জনসমাগমের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নিপাহ ভাইরাস সারাদেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। তাই এখনই কঠোর সচেতনতা, নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা

