ডেস্ক রিপোর্ট:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে দেশটির নেতৃত্ব কে দেবেন? ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই খবর নিশ্চিত হলে, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার মসনদে কে বসবেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে।
ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। আপাতত নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা না থাকলেও, মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলার হাল কে ধরবেন, তা নিয়ে বিশ্লেষকরা তিনটি প্রভাবশালী নামের দিকে ইঙ্গিত করছেন।
সম্ভাব্য তিন উত্তরসূরি:
-
ডেলসি রদ্রিগেজ (ভাইস প্রেসিডেন্ট): বেসামরিক প্রশাসন ও অর্থনীতিতে তার শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে তার সরাসরি প্রভাব তুলনামূলক কম।
-
দিয়োসদাদো কাবেলো (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী): সামরিক বাহিনীর মধ্যে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে, যা তাকে ক্ষমতার দৌড়ে এগিয়ে রাখতে পারে।
-
ভ্লাদিমির প্যাডরিনো লোপেজ (প্রতিরক্ষামন্ত্রী): তিনিও সামরিক বাহিনীর ভেতরে শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই তিনজন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়েছিলেন, যা তাদের নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত বহন করে। সামরিক বাহিনীর আনুগত্য কার দিকে যাবে, তা-ই নির্ধারণ করবে পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিরোধী শিবিরের ভূমিকা ও অনিশ্চয়তা:
মাদুরোর অপসারণে বিরোধী জোট কতটা সন্তুষ্ট হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের নির্বাচনে বিজয় দাবি করা বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নেতৃত্বাধীন জোট ইতোমধ্যেই প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। তারা কেবল মাদুরোর অপসারণেই সন্তুষ্ট নাও হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মাদুরোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার লড়াই যে এখনো শেষ হয়নি, তা স্পষ্ট। আগামী দিনগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

