স্বাস্থ্য ডেস্ক: দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে গেছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এ সময় অনেকেই হাত–পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, জয়েন্টে ব্যথা, পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গ শীতের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া হলেও আর্থ্রাইটিস, গেঁটেবাত বা স্নায়ুরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও বাড়তে পারে।
কেন বাড়ে শীতে ব্যথা?
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে—
-
তাপমাত্রা কমলে শরীর তাপ ধরে রাখতে রক্তনালী সংকুচিত হয়। এতে বিভিন্ন অঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে।
-
জয়েন্টের ভেতরের সিনোভিয়াল ফ্লুইড ঠান্ডায় ঘন হয়ে নড়াচড়া সীমিত করে। ফলে হাঁটু, কোমর, কাঁধ বা আঙুলে ব্যথা তীব্র হয়।
-
ঠান্ডা পরিবেশে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়; ব্যথার সিগন্যাল আরও তীব্রভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
✔ শরীর গরম রাখা
মোজা, গ্লাভস, হিটার, থার্মাল পোশাক, শাল—এসব ব্যবহারে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে, ব্যথা কমে।
✔ গরম সেক
হালকা গরম পানি দিয়ে হাত–পায়ে সেক দিলে পেশি শিথিল হয়।
✔ হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং
প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট ব্যায়াম রক্তপ্রবাহ বাড়ায়; জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট স্বাভাবিক করে।
✔ পানি পান করা
শীতে পানির চাহিদা কম মনে হলেও শরীরে পানি কম থাকলে পেশি শক্ত হয়ে যায়।
✔ সঠিক খাদ্যাভ্যাস
মাছ, ডিম, বাদাম, কলা, ফ্ল্যাক্সসিড এবং রোদে কিছুক্ষণ থাকা প্রদাহ কমাতে কার্যকর।
ওষুধ কখন প্রয়োজন?
ব্যথা সহনীয় না হলে প্যারাসিটামল বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইবুপ্রোফেন/ন্যাপ্রক্সেন সেবন করা যেতে পারে। তবে নিজে থেকে অতিরিক্ত ব্যথানাশক গ্রহণ বিপজ্জনক—বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
-
ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
-
জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে
-
জ্বরের সঙ্গে ব্যথা দেখা দিলে
-
হাত–পা অসাড় বা দুর্বল হলে
-
আর্থ্রাইটিস বা ডায়াবেটিস রোগীর ব্যথা বেড়ে গেলে
বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানই শেষ কথা
“ঠান্ডা লাগলে বাত হয়”—এ ধরনের বিশ্বাস ভিত্তিহীন। ভেষজ তেল, ঝাড়ফুঁক বা অ্যান্টিবায়োটিক এসব সমস্যার সমাধান নয়।
শীত যতই কঠিন হোক, সচেতনতা আর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চললে জয়েন্ট ও পেশির ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

