সময়পত্র ডেস্ক: ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) কোম্পানির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
মাইক্রোসফটের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তির উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো মাইক্রোসফটও এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উইন্ডোজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এই প্রস্তাব পাওয়ার যোগ্য হবেন। এর মধ্যে এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, অর্থ বিভাগ, মানবসম্পদ বিভাগ, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ প্লাস ডিভাইসেস বিভাগের কর্মীরাও রয়েছেন।
তবে বিপণন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেন, যেসব কর্মী ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির বাইরে নতুন কিছু করার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই প্রস্তাব কর্মজীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে কর্মীসংখ্যা সমন্বয় করার সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগ।
চলতি ২০২৬ সালের জন্য মাইক্রোসফট মূলধনি ব্যয় বাবদ ১৭৫ বিলিয়ন ডলার খরচের পূর্বাভাস দিয়েছে। এ বিপুল ব্যয়ের বড় একটি অংশ এআই-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত।
সাম্প্রতিক সময়ে মাইক্রোসফটসহ বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে ডেটা সেন্টার ও উন্নত চিপ তৈরিতে শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। তবে এই বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত আর্থিক মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাজার লেনদেন শেষ হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে মাইক্রোসফটের। এ কারণে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে।
কোম্পানিটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটের পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার। সেই হিসাবে, প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়ার উদ্যোগটি প্রতিষ্ঠানটির কর্মীবাহিনীর একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে, চলতি বছর মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। সোমবারও প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কর্মীদের প্রায় ৭ শতাংশকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল মাইক্রোসফট। ওই কর্মসূচির আওতায় পড়েছিলেন প্রায় ৯ হাজার কর্মী।
এ ছাড়া, গত জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ওই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এক্সবক্স গেমিং ব্যবসা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে, বিভাগটিতে কয়েক বছর ধরে বিপুল বিনিয়োগের পর আর্থিক মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি গেম স্টুডিও থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার অথবা সেগুলো বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানায় কোম্পানিটি।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কানাডা, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট বিভাগে কর্মরত ৭০ বা তার নিচের স্তরের যোগ্য কর্মীরা এই সুযোগ পাবেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু থাকা এই স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের যোগ্য কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
মাইক্রোসফট আরও জানিয়েছে, আগের একটি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ কর্মসূচি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন উদ্যোগটি তৈরি করা হয়েছে। যোগ্য কর্মীদের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ব্যয় কমানোর এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাইক্রোসফট কীভাবে কর্মীবাহিনী পুনর্বিন্যাস করে এআই খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা।

