সময়পত্র ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ‘সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া’ বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টার থেকে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কোব কাউন্টি পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাঁরা ওই ব্যক্তিকে রোলার কোস্টার থেকে পড়ে যেতে দেখেছেন। আটলান্টা শহরের কাছাকাছি অবস্থিত পার্কটির ‘গোলিয়াথ’ নামের রাইডে চড়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন সিএনএনকে জানান, রাইডে চড়ার সময় তোলা স্মারক ছবিতেও ওই ব্যক্তিকে পড়ে যেতে দেখা গেছে।
সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া পার্কে প্রায় এক ডজন রোলার কোস্টার রয়েছে। এর মধ্যে ‘গোলিয়াথ’ অন্যতম আকর্ষণ। পার্কটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২১০ সেকেন্ডের এই রাইডে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ মাইল গতিতে চলার পাশাপাশি প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতায় ওঠার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সিক্স ফ্ল্যাগস পার্কে একই ধরনের কয়েকটি রাইড সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্কটির এক মুখপাত্র। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি এ তথ্য জানান।
এক বিবৃতিতে সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, পার্কে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত। নিহত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
পার্কটির মুখপাত্র আরও জানান, মঙ্গলবার পার্কটি এমনিতেই বন্ধ থাকার কথা ছিল। অক্টোবর মাসে সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পার্কটি খোলা থাকে। তবে ‘কলম্বাস ডে’ উপলক্ষে সোমবার এটি চালু ছিল।
ডব্লিউএক্সআইএ’র আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর রোলার কোস্টারে থাকা অন্য যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই সময় পার্কে অনেক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
পার্কটির নিয়মিত দর্শনার্থী রহিম হাকমাতি সিএনএনকে জানান, সেখানে পৌঁছে তিনি দেখেন, বড় বড় দলে দর্শনার্থীরা পার্ক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ‘গোলিয়াথ’ রাইড থেকে একজন পড়ে গেছেন।
হাকমাতি জানান, রাইডটির কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, নিরাপত্তাকর্মীরা দর্শনার্থীদের সেখান থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন। তখন রোলার কোস্টারটি ওঠার পথে একটি ঢালু অংশে থেমে ছিল। কিছুক্ষণ পর তাঁকেসহ অন্য দর্শনার্থীদেরও পার্ক থেকে বের করে দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার আগের দিনও তিনি ওই রাইডে চড়েছিলেন বলে জানান হাকমাতি। তাঁর ভাষ্য, আগের রাতে রাইডটিতে চড়ার সময় কোনো অস্বাভাবিকতা বা সমস্যা তাঁর চোখে পড়েনি। এ কারণে পরদিনের দুর্ঘটনাটি তাঁর কাছে আরও অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে।

