ক্রিড়া ডেস্ক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকসহ দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট করেছে টাইগাররা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে লাঞ্চ বিরতির আগে ২ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৪৪ রান। এতে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫০ রানে।
টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন হাসান মাহমুদ। তাঁর বোলিং তোপেই বড় বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় বোলার হয়েছেন তিনি। পেসার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিকের রেকর্ডও গড়েছেন হাসান।
দ্বিতীয় ইনিংসে দুই উইকেট হারাল বাংলাদেশ
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ভালো সূচনা এনে দেন তানজিদ হাসান। ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের এক ওভারে টানা তিনটি চার মেরে ওই ওভার থেকে ১৭ রান আদায় করেন তিনি। তবে পরের ওভারেই মোহাম্মদ সেলিমের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান শাদমান ইসলাম।
এরপর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি মুমিনুল হকও। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। দারুণ ক্যাচটি নেন সেদিকউল্লাহ আতাল। অন্যদিকে, ১৮ রানে থাকা তানজিদ হাসানের সহজ ক্যাচ নিজের বোলিংয়েই ফেলে দেন ইয়ামিন।
হাসানের হ্যাটট্রিকে ধসে পড়ে আফগানিস্তান
রোববার (১১ অক্টোবর) একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৯টি উইকেট ভাগাভাগি করেন হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন। এবাদত ৫৬ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।
দিনের শুরুতেই ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে রহমত শাহর সঙ্গে তাঁর ৮০ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙেন এবাদত। এরপর অন্য প্রান্ত থেকে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান হাসান।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে চাপে ছিল আফগানিস্তান। তবে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছিল দলটি। তৃতীয় দিনের সকালে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে লিড নেওয়ার লক্ষ্যও ছিল তাদের। কিন্তু এবাদত ও হাসানের পেস আক্রমণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শেষদিকে এক প্রান্তে অপরাজিত থাকা রহমতকে সতীর্থদের একের পর এক বিদায় দেখতে হয়।
দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ইকরাম আলিখিলকে বোল্ড করেন এবাদত। পরের ওভারেই ইতিহাস গড়েন হাসান মাহমুদ। তাঁর ভেতরে ঢোকা বল নিচু হয়ে ইসমত আলমের স্টাম্পে আঘাত করে। পরের বলে কাইস আহমেদের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে।
এরপর জিয়া-উর-রহমানকে দুর্দান্ত এক বলে ফাঁদে ফেলে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। ভেসে আসা বলটি খেলতে ব্যর্থ হন জিয়া। সামনে পা বাড়িয়ে শট খেলার চেষ্টা করলেও বল আঘাত করে তাঁর পেছনের প্যাডে। টিভি আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল।
এই কীর্তির মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় বোলার হলেন হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে আলোক কাপালি এবং ২০১৩ সালে সোহাগ গাজী এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
দ্রুততম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে ৫০ টেস্ট উইকেট হাসানের
ইয়ামিন আহমেদজাইকে আউট করে ম্যাচে নিজের পঞ্চম উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম টেস্ট খেলেই এই অর্জন তাঁর। এ ক্ষেত্রে তিনি পেছনে ফেলেছেন তাসকিন আহমেদকে, যিনি ৫০ উইকেট নিতে খেলেছিলেন ১৮টি টেস্ট।
অন্যদিকে, ইনিংসের শেষদিকে দ্রুত রান তুলে নিজের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রহমত শাহ। হাসানের বলে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ৯১ থেকে ১০৫ রানে পৌঁছান তিনি।
তবে পরের ওভারেই মোহাম্মদ সেলিমকে আউট করে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এবাদত। এই উইকেটটি ছিল লিটন দাসের পঞ্চম ডিসমিসাল। এর মধ্য দিয়ে মুশফিকুর রহিমের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসেবে এক ইনিংসে পাঁচটি ডিসমিসালের কৃতিত্ব অর্জন করেন লিটন।

