সময়পত্র ডেস্ক: ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়াদিল্লি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ডাকে যন্তর মন্তরে সমাবেশ ঘিরে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে উদ্বেগের চিত্র দেখা যাচ্ছে। আন্দোলন ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পূর্বঘোষণা থাকলেও সমাবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আন্দোলনকারীদের জমায়েত ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ৪০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কাঁটাতার ও স্পাইক স্ট্রিপসহ ব্যারিকেড স্থাপন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছে ধর্নায় বসার পর পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার বিক্ষোভ শুরুর সময় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরুর আগে সিজেপির আইনবিষয়ক দলের প্রধান রত্না সিং এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আইনজীবীদের পথ আটকে আটক করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগের রাত থেকেই রাজধানীজুড়ে ধরপাকড় চালায় পুলিশ। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আগের রাতে প্রায় ৬০০ জনকে আটক করা হয়। শনিবার আটক করা হয় আরও সহস্রাধিক আন্দোলনকারীকে। আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য ছত্রশাল স্টেডিয়াম ও যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্সসহ একাধিক স্থানকে অস্থায়ী আটককেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় দিল্লির প্রায় ৪৬ থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ট্রেন ও যান চলাচল সীমিত করায় সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বিজেপির উদ্বেগের পেছনে জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপির এবারের আন্দোলন ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের বাড়তি সতর্কতার পেছনে রয়েছে জুলাই মাসের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা। ভারতের চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষায় প্রবেশিকা পরীক্ষা—নিট ও ইউজিসি—সংক্রান্ত নজিরবিহীন প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমেছিল সিজেপি। ওই আন্দোলনের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ২৫ জুলাই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে ভূমিকা রাখার ওই সাফল্যের পর ভারতীয় রাজনীতিতে তরুণদের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পায় সিজেপি। আগের আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি। এতে মোদি সরকার নতুন করে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তবে ব্যাপক ধরপাকড় ও বাধার মুখেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব।

