সময়পত্র ডেস্ক: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, উপাচার্যের ব্যবহৃত নীল রঙের বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত গাড়িটি ভবনের বাইরে রাখা রয়েছে। তবে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক তার দপ্তরে ছিলেন না। কক্ষের দরজায় নতুন করে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে ভিসি ঘেরাও কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে একদল ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ওই সময় উপাচার্য তার দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন।
নাজমুল হোসাইনের দাবি, তিনি ওই ব্যক্তিদের উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে জোর করে সরিয়ে তারা কক্ষে ঢুকে পড়েন। পরে জোরজবরদস্তি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পূর্বেই প্রিন্ট করা একটি পদত্যাগপত্রে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হকের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একইভাবে ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনকেও চাকরি থেকে অব্যাহতির একটি পত্রে স্বাক্ষর করানো হয় বলে তিনি জানান।
এদিকে, ব্যানারে আসা ব্যক্তিরা উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশের সময় ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে জানা গেছে। পরে তারা চলে যাওয়ার সময় উপাচার্যের কক্ষে থাকা কম্পিউটার ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর উপাচার্যের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ক্যাম্পাস ছেড়ে বাইরে চলে যান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি এবং আইনগত সহায়তাও চাওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

