সময়পত্র ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। হামলায় কৌশলগত সিরিক এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলজুড়ে পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিশেষ করে হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকা, মিনাব কাউন্টি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির কাছের কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
তবে সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বুধবার দিনভর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নজিরবিহীন পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এতে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
এদিকে পারস্য উপসাগরেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, উপসাগরীয় জলসীমায় তারা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং শর্ত অমান্য করা আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে সফল হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-১ নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জলসীমা থেকে একটি মার্কিন চালকবিহীন সামুদ্রিক ড্রোন বা সি-ড্রোন জব্দ করার দাবিও করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড।

