ক্রিড়া ডেস্ক: নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে আগে ব্যাট করে একসময় ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল নিগার সুলতানার দল। তবে শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ৩৮ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১০৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। পরে মারুফা আক্তারের গতিময় বোলিং ও স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে ৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় আমিরাত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১০৩ রান সংগ্রহ করে। জয়ের জন্য ১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ উইকেটে ৬৯ রান করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে ৩৪ রানের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন শারমিন আক্তার। বোলিংয়ে রাবেয়া খান ৩টি এবং মারুফা আক্তার ২টি উইকেট শিকার করেন। আমিরাতের হয়ে সুরক্ষা কোট্টে ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
এই জয়ের ফলে বৃহস্পতিবার প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে ব্যাটারদের চাপে রাখেন আমিরাতের অফস্পিনার সুরক্ষা কোট্টে। ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে ব্যাটারদের শট খেলতে বাধ্য করছিলেন তিনি। তার বলের গতি ও লাইন সামলাতে গিয়ে বড় শটের চেষ্টা করে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই দিলারা আক্তারকে ফেরান কোট্টে। তৃতীয় ওভারে একই ধরনের ডেলিভারিতে সোবহানা মোস্তারির ক্যাচ নেন ফিল্ডার। এরপর ১১তম ওভারে বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানাকেও সাজঘরে ফেরান তিনি।
পাওয়ারপ্লের তিন ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ২৪ বলের মধ্যে ১৬টি ডট বল করেন কোট্টে। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একপর্যায়ে ৫৫ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এমন পরিস্থিতিতে এশিয়া কাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই দলের হাল ধরেন শারমিন আক্তার। রিতু মনির পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটার ক্রিজে আসার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৩৭ রান।
নিগার সুলতানা ২৩ রানে বিদায় নেওয়ার পর বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়ে। তবে দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন শারমিন।
শুরুতে ১৩ বলে ১৩ রান করে উইকেট ও বোলিংয়ের ধরন বুঝে নেন তিনি। এরপর ১৩তম ওভারের পর তার ব্যাটিংয়ে আসে গতি। ইন্ধুজা নন্দকুমারের বলে দারুণ কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকানোর পর ঈশা ওজার বলে পরপর দুটি চার মারেন শারমিন।
পরে নাহিদা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। এই জুটির কল্যাণেই ৫৫ রানের ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত ১০৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
১০৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই মারুফা আক্তারের গতির সামনে অস্বস্তিতে পড়ে আমিরাত। ইনিংসের মাত্র চতুর্থ বলেই ইনসুইঙ্গারে অধিনায়ক ঈশা ওজাকে বোল্ড করেন তিনি।
ওয়ান-ডাউনে আসা সামাইরা ধরনিধারকার ব্যাটের কানাও খুঁজে নেন মারুফা, এবার ক্রস-সিম ডেলিভারিতে। পাওয়ারপ্লেতে তিন ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন এই পেসার। ফলে প্রথম ছয় ওভার শেষে আমিরাতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৫ রান।
নবম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে ফিরে আসেন মারুফা। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে তিনি আমিরাতের রান তাড়ায় শুরুতেই বড় বাধা তৈরি করেন।
অন্যপ্রান্তে অফস্পিন দিয়ে ব্যাটারদের ওপর চাপ বজায় রাখেন সুলতানা খাতুন। ১০ ওভার শেষে আমিরাতের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৩৪ রান। পরের ওভারেই থের্থা সতীশকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে বাংলাদেশ।
এরপর নাহিদা আক্তার জোড়া উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১৬ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাবেয়া খানও ৩ উইকেট নিয়ে আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান।
বাংলাদেশের বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে পুরো ইনিংসে ৭০টি ডট বল খেলেছে আমিরাত। রান তোলার সুযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৬৯ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ফলে ৩৪ রানের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ।

