নিজস্ব প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের রাস্তা পুলিশের হস্তক্ষেপে উন্মুক্ত হয়েছে। রাস্তায় বাঁশের বেড়া ও সিমেন্টের খুঁটি বসিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁর হস্তক্ষেপে রাস্তার ওপর দেওয়া বাঁশের বেড়া ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে স্থানীয়দের চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তাটি যুগের পর যুগ মেদুলিয়া গ্রামের মানুষের পায়ে হাঁটার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কয়েক বছর আগে মাটি ফেলে সংস্কার ও উন্নয়ন করার পর এটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়। হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সংলগ্ন মেদুলিয়ার ভূঁইয়া ব্রিজ এলাকা থেকে রাস্তাটির শুরু। রাস্তাটির পূর্বাংশে একটি পতিত খালের মধ্যে জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট কহিনুর ইসলাম সানির প্রচেষ্টায় গাইডওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বিশেষ বরাদ্দে মাটির কাজের মাধ্যমে রাস্তাটির উন্নয়ন করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার পশ্চিমাংশে মো. শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মালেকা বেগম (সাদিয়া) কয়েক বছর আগে একটি ভিটেবাড়ি কিনে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই ভিটেবাড়ির পূর্বাংশে রাস্তার মধ্যে নিজেদের জমি রয়েছে—এমন দাবি করে তাঁরা সেখানে বাঁশ ও সিমেন্টের খুঁটি বসিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা বন্ধ থাকায় শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে শনিবার দিবাগত রাতে রাস্তা বন্ধ করা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে সিংগাইর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা আরো জানান, একটি কুচক্রী মহল বিষয়টিকে পুঁজি করে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল যা ওসির দায়িত্বশীল ভূমিকায় ব্যর্থ হয়েছে।
এরপর সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম পুলিশের সহযোগিতা চান। বিষয়টি জানতে পেরে ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম নিজেই ঘটনাস্থলে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। রোববার সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং রাস্তার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন। পরে তাঁর হস্তক্ষেপে রাস্তার ওপর দেওয়া বেড়া অপসারণ করে রাস্তাটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পর ওসি নিজে ঘটনাস্থলে এসে ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এতে গ্রামবাসী স্বস্তি পেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তারা খান বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষের চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরে বিভিন্ন উদ্যোগে মাটি ফেলে রাস্তাটির উন্নয়ন করা হয় এবং যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা হয়। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ ক্ষুব্ধ ছিলেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে রাস্তা উন্মুক্ত হওয়ায় এখন স্বস্তি ফিরেছে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে মোঃ শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন এবং রাস্তার বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে দেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত রাস্তায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত করা যাবে না। স্থানীয়দের যৌক্তিক দাবি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রাস্তার ওপর দেওয়া বেড়া অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মো. শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মালেকা বেগমকে ভবিষ্যতে বাঁশের বেড়া, সীমানাপ্রাচীর বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এ ঘটনায় যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

