নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৪১ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির বাঘাইড় মাছ। পরে মাছটি ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে বাঘাইড় বিপন্ন প্রজাতির মাছ হওয়ায় এটি ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে যমুনা নদীতে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। এ সময় তাঁদের জালে বড় আকৃতির একটি মাছ আটকা পড়ে। জাল টেনে কাছে আনার পর তাঁরা দেখতে পান, সেটি বাঘাইড়। পরে ওজন করে দেখা যায় মাছটির ওজন ৪১ কেজি।
সকালে মাছটি দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চর বাজারে নিয়ে আসা হলে বিশাল আকৃতির বাঘাইড়টি দেখতে স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন।
বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রহিজুল জানান, মো. আসিফ মিয়া, মো. ওহাব মোল্লা ও মো. মতিন শেখ যমুনা নদীতে মাছটি ধরেন। পরে বাঘুটিয়া চর এলাকার সৌদি আরবপ্রবাসী মো. জাকির হোসাইন মাছটি কিনে নেন।
জানা গেছে, প্রতি কেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা হিসাবে ৪১ কেজি মাছটির দাম দাঁড়ায় ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত মাছটি ৫৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। পরে গাড়িতে করে মাছটি নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে বিপন্ন প্রজাতির বাঘাইড় মাছ ধরা ও বিক্রির ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাঘাইড়ের সংখ্যা দিন দিন কমে আসায় প্রজাতিটি সংরক্ষণে মাছটি ধরা ও বিক্রি বন্ধে আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার তন্বী বলেন, বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাঘাইড় মাছ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, বাঘাইড় মাছ ধরা পড়ার তথ্য তাঁর কাছে নেই। তিনি বলেন, বন অধিদপ্তর বাঘাইড় মাছকে বিপন্ন ঘোষণা করেছে। এ মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জেলেদেরও বাঘাইড় না ধরতে নিষেধ করা হয়।

