ক্রীড়া ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য।
ম্যাচের আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পাঁচ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য জানিয়েছিলেন। তবে সেই পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুত জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনেই শেষ হয় ম্যাচ।
তৃতীয় দিনের শেষে ৬৭ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। দিনের শুরুতেই অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ ফসকে যায় বাংলাদেশের হাত থেকে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটার। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ৩০ রানে থামেন ক্যারি।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে একের পর এক আঘাত হানে বাংলাদেশ। মিরাজের বলে ওয়েবস্টার ৫ রানে বোল্ড হওয়ার পর একই বোলারের শিকার হন প্যাট কামিন্স। তিনি ফেরেন ৮ রান করে।
অন্যদিকে এক প্রান্ত ধরে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেন ক্যামেরন গ্রিন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০০ রানে থামেন গ্রিন।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২৮৪ রানে। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মুমিনুল হক ও দলের ব্যাটাররা দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৪তম ওভারে ওয়েবস্টারের বলে কাট শটে চার মেরে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল।
ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই পুরো ম্যাচজুড়ে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ উইকেট নেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ ম্যাচ শেষে এই জয়কে গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মাঠে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর খেলতে এসে প্রথম টেস্ট জয়—বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে তাই ডারউইনের এই জয় হয়ে থাকল এক অনন্য অধ্যায়।

