জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার মুক্তির ৮১তম বার্ষিকীতে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। রোববার (১৬ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) কোরিয়ার মুক্তি দিবস উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তার জবাবে কিম বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ঐতিহাসিক সহযোগিতার ভিত্তিতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
পুতিন তার বার্তায় রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা ও অস্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের মধ্যে আন্তর্জাতিক কোনো সংঘাতে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় সামরিক সম্পৃক্ততার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, কোরিয়ার মুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে আবারও সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
তবে পিয়ংইয়ং এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার এমন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ারও কঠোর সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া।
উল্লেখ্য, ১৯১০ সালে জাপানের দখলে যায় কোরিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জাপানের আত্মসমর্পণের পর দীর্ঘ ৩৫ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং কোরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।

