ক্রীড়া ডেস্ক: ফুটবল ইতিহাসে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছে মাত্র দুটি দল—ইতালি ও ব্রাজিল। আর্জেন্টিনাও একাধিকবার সেই ইতিহাসের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু দুইবারই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনালে উঠে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনল ১৯৯০ সালের স্মৃতি।
১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বলও জিতেছিলেন ম্যারাডোনা। চার বছর পর ইতালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ বিশ্বকাপেও ফাইনালে পৌঁছেছিল তার দল।
কিন্তু সেই ফাইনালে অপেক্ষা করছিল ভিন্ন পরিণতি। ১৯৮৬ সালে যাদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা, সেই পশ্চিম জার্মানির কাছেই ১৯৯০ সালের ফাইনালে হেরে যায় ম্যারাডোনার দল। ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়।
৩৬ বছর পর ইতিহাস যেন একই চিত্র আবারও দেখাল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার মতোই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, গোল্ডেন বল, নিজের করে নেন মেসিও।
কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবারও ফাইনালে উঠেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্সআপ হয় মেসির দল।
আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা—দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে তাই দেখা গেল বিস্ময়কর এক মিল। দুজনই অধিনায়ক হিসেবে দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, দুজনই হয়েছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়, আবার পরবর্তী বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনালে উঠে শিরোপা হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতারও সাক্ষী হয়েছেন।
এই কারণেই অনেকের চোখে ২০২৬ সালের মেসি যেন ১৯৯০ সালের ম্যারাডোনারই প্রতিচ্ছবি—দুই কিংবদন্তির বিশ্বকাপ যাত্রার শেষ অধ্যায়ে ইতিহাস যেন নিজেকেই নতুন করে পুনরাবৃত্তি করল।

