ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বকাপের শিরোপা, গোল্ডেন বল—সবই জিতেছেন লিওনেল মেসি। তবে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এখনও অধরা রয়েছে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার, গোল্ডেন বুট। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালই সেই স্বপ্ন পূরণের শেষ সুযোগ।
তবে এই লড়াই মোটেও সহজ নয়। বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১০-এ নিয়েছেন। অন্যদিকে, ফাইনালের আগে মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮ গোল।
শুধু দুটি গোল করলেই অবশ্য গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না মেসির। কারণ, সেক্ষেত্রে দুজনেরই গোল হবে ১০টি। অ্যাসিস্টেও বর্তমানে সমতায় আছেন তারা—দুজনেরই ৪টি করে।
গোল ও অ্যাসিস্ট সমান হলে ফিফা বিবেচনায় নেয় খেলোয়াড়ের মাঠে কাটানো সময়। যে কম মিনিট খেলে একই পরিসংখ্যান গড়েন, তিনিই এগিয়ে থাকেন। এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৭৬৯ মিনিট, আর মেসির খেলা ৭১২ মিনিট। ফাইনালে ৫৮ মিনিটের বেশি মাঠে থাকলেই মেসির মোট খেলার সময় এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাবে। ফলে এই সমীকরণে সুবিধা থাকবে না আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।
সব মিলিয়ে গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে মূলত দুটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে।
প্রথমত, ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করতে হবে। সেক্ষেত্রে তার গোলসংখ্যা হবে ১১, যা এমবাপ্পের ১০ গোলকে ছাড়িয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত, দুটি গোলের পাশাপাশি অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করতে হবে। তাহলে মেসির গোল হবে ১০ এবং অ্যাসিস্ট দাঁড়াবে ৫টিতে। অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় তিনি গোল্ডেন বুটের মালিক হবেন।
ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা অবশ্য সহজ কাজ নয়। বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন ফুটবলার হ্যাটট্রিক করেছেন—১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
মজার বিষয় হলো, এবারের বিশ্বকাপেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের শুরুতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করেছিলেন তিনি। এবার সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে পারলে শুধু গোল্ডেন বুটই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও যোগ হবে নতুন এক অধ্যায়।
তবে এবার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া নয়, ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তাই মেসির সামনে চ্যালেঞ্জটাও অনেক বড়। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালের মঞ্চে তিনি আরেকটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় লিখতে পারেন কি না।

