ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একবারের জন্যও পিছিয়ে পড়েনি ফ্রান্স কিংবা স্পেন। তবে সেমিফাইনাল শেষে এই অনন্য রেকর্ড ধরে রাখতে পারবে মাত্র একটি দল।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। বিশ্বকাপে এটি হবে ফ্রান্স ও স্পেনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ফ্রান্স টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১৪ গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এই ফরোয়ার্ড এবারও ৮ গোল করে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মেসির ২১ গোলের ক্যারিয়ার রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।
ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন রাবিও বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে আত্মবিশ্বাসী হওয়ারই কথা। তবে শুরু থেকেই যে বিনয় আমাদের পরিচয় হয়ে উঠেছে, সেটি ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।’
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে ২০ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে পেলের পর দ্বিতীয় কিশোর হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কীর্তিও গড়েছিলেন তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে গোল করার পর ৭৭তম মিনিটে মাঠ ছাড়লেও ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম জানিয়েছেন, এমবাপ্পে পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং সেমিফাইনালে খেলতে কোনো সমস্যা হবে না।
অন্যদিকে, স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। সোমবার ১৯ বছরে পা দেওয়া এই উইঙ্গার ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে জয় উদযাপন করেছেন।
২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে জিততে সাহায্য করেছিলেন ইয়ামাল। এরপর উয়েফা নেশনস লিগেও ফ্রান্সকে ৫-৪ গোলে হারানোর ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। যেখানে একটি দল নিজেদের অপরাজিত যাত্রা ধরে রেখে ফাইনালে জায়গা করে নেবে, অন্য দলের শেষ হবে শিরোপার স্বপ্ন।

