ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া জর্ডান দারুণ লড়াই করেও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পয়েন্ট তুলতে পারল না। ম্যাচে একবার সমতায় ফিরলেও আত্মঘাতী গোল ও শেষ মুহূর্তের পেনাল্টির কারণে ৩-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে।
বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারায় অবস্থিত সান ফ্রান্সিসকো বে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় দুই দলকে।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে রোমানো শ্মিডের চমৎকার বাঁকানো শটে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। প্রথমার্ধে এই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ইউরোপিয়ান দলটি।
বিরতির পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামে জর্ডান। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০তম মিনিটে আলি অলওয়ানের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে দলটি। গোলের পর ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে জর্ডানের খেলোয়াড়রা।
অস্ট্রিয়ার হয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মার্কো আর্নাউটোভিচ একবার জালও খুঁজে পেয়েছিলেন। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যবেক্ষণে হ্যান্ডবলের কারণে সেই গোল বাতিল করা হয়।
এরপর ৭৬তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আত্মঘাতী গোল করেন জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরাব। সেই গোলেই আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া।
যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় অস্ট্রিয়া। স্পট কিক থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন আর্নাউটোভিচ। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রিয়ানরা।
তবে স্কোরলাইন যতটা একপেশে মনে হচ্ছে, মাঠের লড়াই ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বল দখলে অস্ট্রিয়া এগিয়ে থাকলেও আক্রমণভাগে জর্ডান ছিল সমান কার্যকর।
ম্যাচে উভয় দলই ১১টি করে শট নেয় এবং লক্ষ্যে রাখে ৪টি করে শট। বক্সের ভেতর থেকে শট নেওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিল জর্ডান। এছাড়া ড্রিবল ও ব্যক্তিগত দ্বৈরথে অস্ট্রিয়ার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখায় তারা।
বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে হারলেও জর্ডানের পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ফলাফল তাদের পক্ষে না গেলেও লড়াকু মানসিকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে দলটি।

